নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে কি কি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ?


মাত্র দুবছরেরও কম সময়ে মহাকাশে উেক্ষপণ হবে বাংলাদেশের গৌরবের উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ু্ল স্যাটেলাইট-১’। মহাকাশে এই উপগ্রহ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ উন্নীত হবে এক অন্য উচ্চতায়। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাত ও স্যাটেলাইটনির্ভর সম্প্রচার মাধ্যমসহ ৪০ ধরনের সেবা পাবে বাংলাদেশ। বছরে সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের দুর্গম অঞ্চলগুলো সরকারের নজরদারিতে আসবে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে আরও অনেকদূর। সূত্র জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের দুই বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণ করা হবে। উেক্ষপণের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হযেছে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর। এই স্যাটেলাইট উেক্ষপণের জন্য গত ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের কোম্পানি থেলেস এলেনিয়ার সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসি সূত্র জানায়, প্রতি বছর শুধু সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে ১০৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে বঙ্গবন্ু্ল স্যাটেলাইট। বর্তমানে টেলিভিশন, রেডিওর সম্প্রচার ও মোবাইল, টেলিফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় হিসেবে এ পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যায়।বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর আর নির্ভরশীল হতে হবে না। অন্যদিকে স্যাটেলাইটের অব্যবহূত তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে। এ ছাড়াও নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকার কারণে আমাদের রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর অনেক বিষয়ের গোপনীয়তাও রক্ষা পাবে। বর্তমানে অন্য দেশের স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অন্যরা জেনে যায়। উল্লেখ্য, মহাকাশের বিভিন্ন রেখায় স্থাপন করা ৬৯টি দেশের শতাধিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও সম্প্রচার এবং গোয়েন্দাগিরির কাজ করে যাচ্ছে। নিজেদের স্যাটেলাইট না থাকায় বাংলাদেশের ওপর বিদেশি পাঁচটি স্যাটেলাইট ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশ্বের ৪৫টি দেশের মহাকাশে নিজস্ব স্পেস রয়েছে। তাদের আকাশসীমায় অন্য কোনো দেশের স্যাটেলাইট নেই। ৫০টি দেশ অন্য দেশের সহযোগিতায় স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। লার্নএশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাইদ খান এক পর্যালোচনায় বলেন, মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের এই উদ্যোগ গর্ব করার মতো একটি বিষয়।

0 Response to "নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে কি কি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ?"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন